নেইমার কোন চাপ নিচ্ছে না বেলজিয়ামের বিপক্ষে

117

নিন্দুকেরা যা-ই বলুন না কেন, নেইমার যে ব্রাজিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, সেটি প্রমাণ হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটার কথাই ধরুন, ৫১ মিনিটে তাঁর পা থেকেই এল দলের প্রথম গোলটি। খেলার শেষ দিকে আরও একটি গোলে করলেন অ্যাসিস্ট। সেদিন নিজেকে নেইমার ফিরে পেয়েছিলেন বলেই বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত সেরা খেলাটা খেলল মেক্সিকোর বিপক্ষেই। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পিএসজি তারকা কি একটু বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না? নেইমার অবশ্য নিজে জানিয়েছেন, ম্যাচটি নিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন না তিনি।

কাজানে বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াইটা যে ব্রাজিলের জন্য খুব সোজা হবে না—সেটা সবাই জানে। এডেন হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের বেলজিয়াম এবার বিশ্বকাপে ‘কালো ঘোড়া’ হিসেবেই আবির্ভূত। জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি তো তাদের জেতারই কথা ছিল না। ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচটি বেলজিয়ানরা জিতেছে চোখধাঁধানো ফুটবল খেলেই। নেইমার নিজেও মানছেন, ব্রাজিলের জন্য আজকের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি খুব সহজ হবে না, ‘বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে অনেক দিন হয়ে গেছে, আমি বেলজিয়ামের প্রতিটি ম্যাচ বারবার দেখেছি। তারা দারুণ শক্তিশালী দল। ওদের প্রতিটি পজিশনের আছে বিশ্বমানের দক্ষ ফুটবলার।’

ব্রাজিলের অভিধানে যে দ্বিতীয় হওয়াটাও ব্যর্থতা, সেটি জানেন এবং মানেন নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশন। আর সেই ‘হেক্সা’ জিততে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই তাদের, ‘এটি কোয়ার্টার ফাইনাল, অনেক দলই এখানে আসার প্রত্যাশা করেছিল কিন্তু তারা পারেনি। আমাদের সেরা দল হিসেবেই তাই কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ করতে হবে।’

নেইমার এই ম্যাচে নিজের ওপর চাপ নিচ্ছেন না। কিন্তু সেটি কতটা বাস্তবসম্মত? ব্রাজিলের মানুষের প্রত্যাশাটাই তো চাপ হয়ে বারবার দেখা দেয় তাঁর জন্য, ‘আমি জানি ব্রাজিল সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশা কেমন, আমার ওপর ব্রাজিলিয়ানদের প্রত্যাশাটাও জানি। এখন ব্রাজিল দলে অনেক ভালো ফুটবলার আছে। সমর্থকেরা তাদের ওপরও ভরসা করে। তাই আলাদাভাবে আমার চাপ না নিলেও চলে।’

সুত্রঃ প্রথম আলো